বর্তমানে প্রায় প্রতিটি মানুষই শাক-সবজির উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। তার কারণ বর্তমানে মানুষের মধ্যে শারীরিক সমস্যাগুলি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য মানুষ বেশি করে শাক-সবজি খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এইরকমই শাক সবজির মধ্যে এক অন্যতম সবজি হলো ক্যাপসিকাম। বর্তমানে এই সবজির জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে বাড়ির বিভিন্ন রান্না ক্যাপসিকাম এর উপস্থিতি লক্ষিত হয়। অনেকের কাছেই এটি অত্যন্ত সুস্বাদু একটি সবজি। তবে বর্তমানে বাজারে ক্যাপসিকাম এর যথেষ্ট মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। মধ্যবিত্তরা চাইলেই যখন-তখন ক্যাপসিকাম রান্নায় দিতে কিছুটা দ্বিধা বোধ করছেন। তাই এমন একটি পদ্ধতি আছে যার মাধ্যমে আপনি নিজেই আপনার বাড়ির মধ্যে টবে ক্যাপসিকাম চাষ করতে পারেন। যার দ্বারা আপনাকে বাজার থেকে আর বহুমূল্যে ক্যাপসিকাম কিনতে হবে না। এর জন্য কিছু বিশেষ পদ্ধতি আপনাকে অবলম্বন করতে হবে যেমন,
বাড়ির মধ্যে টবে ক্যাপসিকাম চাষ করতে গেলে আগে আপনাকে জোগাড় করতে হবে মাটি। ক্যাপসিকাম চাষের জন্য উপযোগী মাটি হল দোঁয়াশ মাটি অথবা বেলে মাটি। এই মাটি জোগাড় করে টবে দেওয়ার আগে মাটিকে ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিন। তারপর টবে এই মাটি দিয়ে দিন।
ভাদ্র মাস, পৌষ এবং অগ্রহায়ণ এই মাস গুলিতে ক্যাপসিকাম বীজ বপন করলে উপযুক্ত ফলনের আশা করা যায়।
ক্যাপসিকাম বীজ কিনে এনে সেগুলি সারা রাতভর কোন একটি পাত্রে জল এর মধ্যে ভিজিয়ে রেখে দিন।
পরের দিন টবের মধ্যে মাটিতে ওই বীজ পুঁতে দিন এবং তার সাথে কিছুটা জৈব সার মিশিয়ে দিন। জৈব সার দিলে ফলন হবে দুর্দান্ত।
এরপর খেয়াল রাখতে হবে ক্যাপসিকাম গাছ চারা অবস্থায় বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকা মাকড়ের আক্রমণের শিকার হতে পারে, তাই পোকামাকড় থেকে গাছকে রক্ষা করার জন্য বাজার থেকে জৈব কীটনাশক কিনে আনুন এবং গাছে হালকাভাবে স্প্রে করবেন। এর ফলে ক্যাপসিকাম চারা গাছে পোকা ধরার সম্ভাবনা থাকবে না।
সাধারণত বীজ থেকে চারা বেরিয়ে দুই থেকে আড়াই মাস সময় পর গাছে ক্যাপসিকাম ফলতে শুরু করবে। খুব শীঘ্রই এই সুস্বাদু ক্যাপসিকামের মজা নিতে পারবেন আপনি। তাহলে দেরি না করে আজই চটপট এই পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে পারেন।