বাঙালির প্রিয় পুজো দুর্গাপুজো। আজ ষষ্ঠী, দেবীর বোধন। কোরোনাকে সঙ্গী করেই অনেক জায়গায় দুর্গাপূজা পালিত হচ্ছে। করোনার জন্য অনেকের চাকরি চলে যাওয়া থেকে আরম্ভ করে অনাহারে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে। সবকিছু মানিয়ে নিয়েও বাঙালির এই মহোৎসব পালিত হচ্ছে। এই সীমিত আনন্দেও এবার ভাটা পড়লো। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে, বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দপ্তর। নিম্নচাপের ফলে আজ সকাল থেকেই আকাশের মুখ গোমরা। এতে বাঙালির কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুদিন ধরে অর্থাৎ ৪৮ ঘন্টা ধরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তার সাথে বইবে ঝোড়ো হাওয়া।
বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্টি হওয়া এই শক্তিশালী নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে আরো ক্ষতিকারক হয়ে উঠেছে। ষষ্ঠী থেকে অষ্টমি পর্যন্ত অর্থাৎ এই দু'দিন দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। গরমের এই অস্বস্তি থেকে রেহাই পাওয়া গেলেও বাঙালির কিন্তু মুখ ভার। বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন হওয়া নিম্নচাপের গতিপথ ছিলো অন্ধ্র উপকূল ও উড়িষ্যার দিকে। আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন এই নিম্নচাপ উড়িষ্যার দিকে না গিয়ে উপকূলবর্তী এলাকাতে নিজেকে আরও সক্রিয় করে শক্তি সঞ্চয় করছে। এবং এই নিম্নচাপ পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিক দিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে। এই নিম্নচাপটি যেহেতু পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিক দিয়ে যাবে তাই উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে।
এইসময় সমুদ্র ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বলে উপকূলবর্তী এলাকায় প্রশাসন অষ্টমী অর্থাৎ ২৪ শে অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছেন। এছাড়াও উপকূলবর্তী এলাকাতে অন্য কোন পর্যটকদেরও যাওয়া নিষিদ্ধ। আরো জানা গেছে যে এই নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করে আরও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে।