উত্তর কোরিয়া ! পৃথিবীর এমন একটি দেশ যেখানে নরক যন্ত্রণা ভোগ করেন অধিবাসীরা।

2nd October 2020 4:17 pm News
উত্তর কোরিয়া ! পৃথিবীর এমন একটি দেশ যেখানে নরক যন্ত্রণা ভোগ করেন অধিবাসীরা।


র্তমানে পৃথিবীর প্রতিটা দেশ‌ই বলতে গেলে স্বাধীন। স্বাধীনতা প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু এখনো পৃথিবীর কিছু দেশ এমনই আছে যেখানে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র এখনো কায়েম রয়েছে। এমনই একটি দেশ হল উত্তর কোরিয়া। নামেই গণতন্ত্র থাকলেও সেখানকার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন সেখানে অন্ধকারের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন। সেখানকার অধিবাসীরা প্রতিদিন তীব্র নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে সেখানে। সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত তাদের স্বাধীনতা হারিয়েছে। ‌ স্বৈরাচারী শাসক কিম জং উনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারেন না কেউ‌ই। 
সাধারণ মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা হয়েছে সেখানে ভূলুণ্ঠিত। শিক্ষিত মানুষেরাও তাঁদের শিক্ষাকে নিভৃতে চাপা দিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন।  

অনেকেই উত্তর কোরিয়াকে পৃথিবীর নরক আখ্যা দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ায় বলবৎ রয়েছে এমন কিছু নিয়ম যা শুনলে হতবাক হয়ে যাবেন সকলেই। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক-

প্রথমেই বলি যে উত্তর কোরিয়া এমন একটি দেশ যেখানে কেউ নিজের ইচ্ছা মত চুল কাটতে পারেন না। হঠাৎ নিজের রুচি অনুযায়ী কেউ চুলের স্টাইল করতে পারেন না। উত্তর কোরিয়া প্রশাসন অধিবাসীদের জন্য ২৮ রকমের চুলের ছাঁট নির্ধারণ করে রেখেছে। চুল কাটলে এই ২৮ রকমের চুলের ছাঁটের মধ্যেই কাটতে হবে। এমনকি সেখানে বিবাহিত মহিলাদের ছোট চুল রাখা বাধ্যতামূলক। 

উত্তর কোরিয়ার স্কুলগুলিতে বাচ্চাদের সকলকে নিজেদের স্কুল নিজেদেরকেই পরিষ্কার রাখতে হয়। স্কুলের ক্লাস রুম, বাথরুম, এবং বারান্দা সবকিছুই স্কুলের বাচ্চাদের পরিষ্কার করতে হয়। 

উত্তর কোরিয়ায় বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এ নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। যেমন, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম , হোয়াটসঅ্যাপ প্রভৃতি। উত্তর কোরিয়ার শাসক তার অধিবাসীদের যেটা দেখাতে ইচ্ছুক হয়, অধিবাসীরা কেবলমাত্র সেটাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখতে পান। 

এখানকার প্রতিটি খবরের চ্যানেল এর উপরে সরকার কড়া নজর রেখে দেয়। রাষ্ট্রবিরোধী কোনো রকম খবর সম্প্রচারিত করা রীতিমতো কঠোর দন্ডের সম্মুখীন করে দেয় খবরের চ্যানেল গুলি কে। 

সমগ্র পৃথিবীতে বর্তমানে ২০২০ সাল বর্তমান। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার ক্যালেন্ডারে তারা ১০৯ বছর বলে হিসাব করে। এর কারণ স্বরূপ বলা যায় উত্তর কোরিয়া পৃথিবীর ক্যালেন্ডার কে স্বীকার করে না। তাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার রয়েছে। 

উত্তর কোরিয়ায় ছেলেদের জিন্স এবং মেয়েদের প্যান্ট পরতে দেওয়া হয় না। তার কারণ উত্তর কোরিয়ার শাসক কিং জং উন এর মতে, এই জিন্স আমেরিকার সংস্কৃতি। 

উত্তর কোরিয়ায় যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তাহলে অপরাধীকে এবং তার পিতাকেও সাজা ভোগ করতে হয়। 

উত্তর কোরিয়ায় মানুষজন যদি বাড়ি থেকে বের হতে চান তাহলে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ‌ যার দরুন উত্তর কোরিয়ার রাস্তাঘাট বেশিরভাগ সময় ফাঁকা থাকে। 

উত্তর কোরিয়ায় যৌনতা একদমই নিষিদ্ধ। এখানে যদি কেউ ব্লু ফিল্ম দেখতে গিয়ে কোনোভাবে ধরা পড়ে যান, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

পৃথিবী বিখ্যাত কোম্পানি অ্যাপল, মাইক্রোসফট, সোনি প্রভৃতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ উত্তর কোরিয়ায়। 

উত্তর কোরিয়ায় এরকম স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কায়েম থাকার কারণ হলো অধিবাসী আজ পর্যন্ত কিম জং উনের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ানোর সাহস পাননি। তাই আমরা খুবই ভাগ্যবান যে আমরা এমন একটি দেশে জন্মগ্রহণ করেছি যেখানে আমরা রীতিমতো স্বাধীনতার আস্বাদ গ্রহণ করতে পারি।





Others News

যৌন নির্যাতনের দায়ে এক যুবককে নগ্ন করে প্রকাশ্যে ঘোরানো হলো রাজস্থানে।

যৌন নির্যাতনের দায়ে এক যুবককে নগ্ন করে প্রকাশ্যে ঘোরানো হলো রাজস্থানে।


এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের অন্তর্গত বাগের গ্রামে। এক মহিলাকে ধর্ষণ করার দায়ে অভিযুক্ত এক যুবককে সম্পূর্ণ নগ্ন করে তার গলায় জুতার মালা দিয়ে প্রকাশ্যে সারা গ্রাম ঘোরানো অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবক অভিযোগ করেছে কোন রকম প্রমাণ ছাড়াই তাকে নির্যাতন করেছে গ্রামবাসীরা, যুবককে এইভাবে নির্যাতন করার জন্য,  প্রায় ৯ জন গ্রামবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিগৃহীত যুবকের নাম রাকেশ রাঠোর। তার বয়স প্রায় ২৯ বছর। জানা গিয়েছে ওই গ্রামের ওই মহিলার বাড়িতে গিয়েছিল রাকেশ। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাকে নাকি হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই মহিলার স্বামী এবং রাকেশকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। ‌কিন্তু পরের দিন সকাল বেলায় আবার বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে এসে রাকেশের বাড়িতে ঢুকে পড়েন ওই মহিলার স্বামী। তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে রাকেশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাকেশ কে মারধর করেন ওই মহিলার স্বামী এবং তার সাথে থাকা লোকজন, তারপরই রাকেশকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়। 

এর পরেই ওই যুবক থানায় অভিযোগ জানায় ‌ । ওই যুবক ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি প্রজেক্ট এর সুপারভাইজার। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে এই অভিযোগ করে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করে ওই যুবক। পুলিশ তৎপর হয় এই ঘটনায় যদিও ওই মহিলার বয়ান এখনো পায়নি পুলিশ। তবে ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় মোট ৯ জন গ্রামবাসীকে।