পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব যে সাংঘাতিক আকার ধারণ করেছে তা একটি মাত্র পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপেই পরিষ্কার। দিন দিন সারা ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ তেও বেকারত্ব চরমসীমায় নেমে গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বনদপ্তরে বন সহায়ক পদের জন্য শূন্যপদের বিবরণ দিয়ে আবেদনের নোটিশ দিয়েছিল। এই শূন্য পদে যোগ্যতা দেওয়া হয়েছিল ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাস। কিন্তু আবেদনের সংখ্যা দেখে মাথায় হাত পড়েছে বনদপ্তর আধিকারিকদের। এই পরীক্ষায় কোন লিখিত পরীক্ষা থাকবে না। এই পরীক্ষা শুধুমাত্র মৌখিক এর মাধ্যমে নেওয়া হবে।
এই পরীক্ষায় ইন্টারভিউ দেওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে অষ্টম শ্রেণী পাশ। বাংলা বলতে এবং পড়তে পারলে থাকছে মোট ৬০ নম্বর। হিন্দি , ইংরেজি পড়তে পারলে পরীক্ষার্থীরা পাবেন ১০ নম্বর। শারীরিক সক্ষমতায় থাকছে ২০ নম্বর। জেনারেল স্টাডিস এর উপর দেওয়া হবে ১০ নম্বর।
জানা গিয়েছে আগামী অক্টোবরের ৫ তারিখ থেকে বনদপ্তর এই শূন্য পদের ইন্টারভিউ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে। জানা গিয়েছে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জনের মতো আবেদনকারীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হবে। কিন্তু শূন্যপদে তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অত্যাধিক হয়ে যাওয়ায়, রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন বনদপ্তর আধিকারিকরা। যেমন ঝাড়গ্রামে শূন্যপদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ টি। কিন্তু সেখানে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৪৮ হাজারের মতো।
এই বন সহায়কদের প্রধান কাজ হবে বনের পশু পাখি এবং সম্পদকে রক্ষা করা, এবং জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে, জমিতে হাতি ঢুকে পড়লে , হাতিদের তাড়িয়ে আবার জঙ্গলে পাঠিয়ে দেওয়া।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব কত টাই না সাংবাদিক ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এইট পাস বন সহায়ক পদের জন্য আবেদন করেছেন অনার্স গ্রাজুয়েট থেকে শুরু করে, পিএইচডি ডিগ্রিধারী পরীক্ষার্থীরা। অর্থাৎ সকলেই চাইছেন যে করেই হোক একটি সরকারি চাকরি। কিন্তু যদিও বন সহায়ক পদের এই চাকরি পুরোপুরি স্থায়ী নয়।
এত ব্যাপক পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে বনদপ্তর আধিকারিকরা স্থির করতে পারছেন না যে কিভাবে ইন্টারভিউ তাঁরা নেবেন, ইন্টারভিউতে কিভাবে তারা নিয়োগ করবেন এবং কিভাবে তাঁরা পরীক্ষার্থীদের বাদ দেবেন তা নির্ধারণ করতে পারছেন না তাঁরা।
পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্ব সমস্যা যে কতটা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে তা দেখে রীতিমতো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আঘাত হানছে মানুষের মনে।