বর্তমানে মাওবাদীদের কার্যকলাপ সীমিত হয়ে গিয়েছে মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে আবার সক্রিয় হতে শুরু করেছে মাওবাদীরা। তৃণমূল সরকার বাংলায় মাওবাদীদের সাহায্য করতে অনেকটাই সফল হয়েছে বলে দাবি করে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে ক্ষমতায় আসীন হলেই, মাওবাদীদের হাতে নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সর্বসম্মতভাবে সাহায্য করবে তৃণমূল সরকার। কিন্তু সুদীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি হয়ে গিয়েছে, কথা রাখেনি তৃণমূল সরকার এমনটাই অভিযোগ মাওবাদীদের হাতে নিহত জঙ্গলমহলের এবং অন্যান্য এলাকার মানুষজনের পরিবারের। প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে তাদের হাতে পায়ে ধরেও কোনরকম সাহায্য পাননি নিহত মানুষদের পরিবারবর্গ। অনেক পরিবার আর্থিক দিক দিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে।
মাওবাদীদের হাতে নিহত, নিখোঁজ মানুষদের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন যে তারা নবান্ন পর্যন্ত সুপারিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সেখান থেকেও কোনরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হতে হতে মাওবাদীদের হাতে নিহত মানুষদের পরিবারবর্গ এবার বলছেন যে, "মাওবাদীদের দেখানো পথেই আমরা এবার হাঁটবো। কিছু মাওবাদীরা আমাদের পরিবারের লোকেদের খুন করে দিলো তারা কালক্রমে মূলস্রোতে ফিরে চাকরি পেলো, কিন্তু আমাদের কপালে জুটলো লাঞ্ছনা, বঞ্চনা। মাওবাদীদের হাতে নিহত মানুষজনের পরিবারবর্গ মিলে গঠন করেছে যৌথ মঞ্চ। এই যৌথ মঞ্চের সদস্যরা আজ মঙ্গলবার বৈঠকে তাঁদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছেন।
শুধুমাত্র মাওবাদীদের হাতে নিহত পরিবারের সদস্যরাই নয়, মাওবাদীদের তান্ডবে নিখোঁজ শতাধিক মানুষের পরিবারের সদস্যরাও এই দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলের এই বিক্ষোভ বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অস্বস্তি বৃদ্ধি করেছে।